কলাম Archives — সোজা কথা ডটকম https://sojakotha.com/category/কলাম/ Latest online bangla news | bd, world, Sports, photo, video live Wed, 12 Apr 2023 13:31:44 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://sojakotha.com/wp-content/uploads/2020/10/cropped-sojakotha-32x32.png কলাম Archives — সোজা কথা ডটকম https://sojakotha.com/category/কলাম/ 32 32 রাইটলি রঙ হেডেড https://sojakotha.com/%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/8768/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a1/ Wed, 12 Apr 2023 13:31:44 +0000 https://sojakotha.com/?p=8768 ডাজাফরুল্লাহ চৌধুরীর লন্ডনের বিলাসী জীবন তাঁর জীবনের পরবর্তী পথ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলো বলে মনে হয়। দামী গাড়ির শখ কিংবা ফ্লাইং ক্লাবে উড্ডয়নের শখপূরণের পর বিলাসী জীবনের মোহ তাঁর মধ্যে আর ছিলো না। এ কারণেই উচ্চাভিলাষ শব্দটি তাঁর অভিধানে ছিলো না। ফলে দেশপ্রেম তাঁর জীবনে অর্থবহ হতে পেরেছে। বাংলাদেশে দেশপ্রেম করা হচ্ছে বিলাসী জীবন লাভের […]

The post রাইটলি রঙ হেডেড appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
ডাজাফরুল্লাহ চৌধুরীর লন্ডনের বিলাসী জীবন তাঁর জীবনের পরবর্তী পথ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলো বলে মনে হয়। দামী গাড়ির শখ কিংবা ফ্লাইং ক্লাবে উড্ডয়নের শখপূরণের পর বিলাসী জীবনের মোহ তাঁর মধ্যে আর ছিলো না। এ কারণেই উচ্চাভিলাষ শব্দটি তাঁর অভিধানে ছিলো না। ফলে দেশপ্রেম তাঁর জীবনে অর্থবহ হতে পেরেছে।

বাংলাদেশে দেশপ্রেম করা হচ্ছে বিলাসী জীবন লাভের একটা ছুঁতো। এ কারণে যারা দেশপ্রেম করে খায়; তাদের চিন্তার গজফিতায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দেশপ্রেম মাপামাপি করা বেশ কঠিন। পলিটিক্যাল লিলিপুটদের চোখে তিনি তাই ছিলেন রঙ হেডেড।

সাধারণ মানুষ; যারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে খায়; দেশের জন্য বুকের গভীরে ভালোবাসা লালন করে; জাফরুল্লাহর মৃত্যু তাদের কাছে মনের মানুষের চলে যাওয়া।

আর দলীয় ফুটসোলজারদের কাছে; কতটুকু শ্রদ্ধা জানাবো; কতটুকু নিন্দা জানাবো তার কুঞ্চিত মাপামাপি।

আসলে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কারখানায় সমর্থকদের জন্য যে মাপের জুতা তৈরি হয়; জাফরুল্লাহ’র পায়ের মাপ তার চেয়ে অনেক বড় ছিলো।

পাকিস্তান উপনিবেশের পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে সেই যে তিনি মুক্তিযুদ্ধে নেমে পড়লেন, আমৃত্যু তিনি সেই মুক্তির যুদ্ধে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবার জন্য গড়ে তোলা ফিল্ড হাসপাতালের জাদুঘর হিসেবে রয়ে গেছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সাধারণ মানুষের সেবা দেবার জন্য এই কেন্দ্রটি নিরলস কাজ করে চলেছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বুঝেছিলেন, যে সংগ্রাম ছিলো মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম; তা কেবল ভৌগলিক স্বাধীনতার অর্জনের যুদ্ধেই শেষ হয়ে যায় না। মানুষের মুক্তির সংগ্রাম মানে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া।

উচ্চাভিলাষ না থাকায়, একদলীয় শাসনের অংশ হতে চাননি, সামরিক শাসকদের দেয়া মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যনীতি ও ওষুধ নীতি তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

জাফরুল্লাহ’র তৈরি জননীতি যাদের ব্যবসার পেটে লাথি দিয়েছে; তাদের চোখে তিনি ছিলেন রঙ হেডেড। স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের পলিটিক্যাল ফুট সোলজাররা জাফরুল্লাহর তৈরি নীতিকে গণবিরোধী নীতি বলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

কিন্তু তাঁর তৈরি ওষুধ নীতিটি কালক্রমে ঠিকই দেশজ ঔষধ তৈরি শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু জনমানুষের জন্য প্রয়োজনীয় একটি স্বাস্থ্যনীতি আজো গড়ে ওঠেনি স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের জনবিরোধী বাধার মুখে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় লক্ষ্য করেছেন, পাকিস্তান উপনিবেশ তাড়ানো গেলেও দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে অলৌকিক এক অলিগার্ক উপনিবেশ। কিছু পরিবার আর তাদের লেঠেলরাই এই উপনিবেশের মালিক। নিজভূমে পরবাসী দেশের মানুষ। অলিগার্ক উপনিবেশের শৃংখল ছেঁড়ার জন্য মুক্তির এই ডাক্তার চব্বিশ ঘন্টা সক্রিয় থাকতেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অলিগার্ক উপনিবেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত চ্যাট জিপিটিগুলো এই ডাক্তারকে নিয়ে অযাচিত কথা বলেছে; ভেবেছে “ডাক্তাররে” গান্ধা কইরা দিছি।

ঠিক সে সময় সত্যজিত রায়ের গণশত্রু চলচ্চিত্রের মুখ্যচরিত্র ডাক্তারটির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে ডা জাফরুল্লাহর।
স্বাধীন দেশে তাঁকে “মাছ চুরির” পরাবাস্তব মামলা দেয়া হয়েছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির শীর্ষ নেত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগঘন সংস্কৃতি পুরোহিতেরা তাঁর প্রগতিশীলতার পৈতে কেড়ে নিতে সচেষ্ট থেকেছেন। কারণ প্রগতিশীল হতে গেলে কেবল আওয়ামী লীগের গতির জন্য ক্রিয়াশীল থাকতে হয় এই বিজন চিন্তাগ্রামে।

বিএনপিতেই আবার অর্ধশিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব আছে, যেখানে বাস করে স্যার ডাক শোনার আকুতি। প্রবীণদের সম্মান জানানোর পরিবর্তে অধীনস্থ ভাবার রাজরোগ আছে। জাফরুল্লাহ তাই তরুণ নেতৃত্বকে আবার স্কুলে ভর্তি হয়ে শিক্ষিত হয়ে আসার পরামর্শ রেখে বিএনপির নেত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে দেন। বিএনপি কারখানায় তৈরি জুতার চেয়ে জাফরুল্লাহর পায়ের মাপ বড় এতো জানা কথা।

সবশেষে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মঞ্চে সক্রিয় থেকেছেন গরীবের এই ডাক্তার।

আমরা যারা প্রতিশোধ চিন্তায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘুরি; তাদের পক্ষে গান্ধীজীর অহিংস আদর্শ, কিংবা বঙ্গবন্ধুর ক্ষমার আদর্শ বোঝা প্রায় অসম্ভব। ফলে জাফরুল্লাহ’র শত্রুকে ক্ষমা করে দেবার দর্শন আমাদের পক্ষে বোঝা হয়তো সম্ভব নয়। প্রিয়াংকা গান্ধী ও রাহুল গান্ধী তাদের পিতার হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়ায়; আমরা স্তম্ভিত হয়েছি। ভাবতে শুরু করেছি, কিছু মানুষের জীনগত বৈশিষ্ট্যে ও চিন্তায় বিশালতা থাকে। আমাদের চোখের বদলে চোখ নেয়া অন্ধ সমাজের পক্ষে সেসব ঔদার্য্যের বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা কঠিন।

আমরা হচ্ছি ফেসবুকের দলীয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গোলাম। আমরা যা বুঝবো না; তা নিয়ে দাঁত বের করে ফ্যাচ ফ্যাচ করে হাসবো।

জাফরুল্লাহ’র ঔদার্য্য, সরলতা, মানুষের মুক্তির সংগ্রামে সতত সক্রিয় থাকার যে অনুপ্রেরণা; নতুন প্রজন্মের জন্য পথের দিশা দেয়। একটা খেলনা জীবন যাপন করে; বিত্ত বৈভবের ইঁদুর দৌড়ে দিশাহারা হয়ে দৌড়ে চলার যে সময়, যেখানে মোটিভেশনাল স্পিকার এসে প্রতিনিয়ত সিক্স ডিজিটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে চিন্তাজগতটাকে সংকীর্ণ করে দেয়, সেখানে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঝটকা টানে নিয়ে যান মানুষের জন্য উতসর্গ করা অর্থপূর্ণ জীবনের মোহের দিকে।

ফেসবুকের লাশকাটা ঘরে দলীয় শব কর্মীরা জাফরুল্লাহ’র শব ব্যবচ্ছেদ করলেও; বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ এক যোগে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অফ অনার দিয়েছে।

যারা এই বিশাল হৃদয় মানুষের বিরুদ্ধে “মাছ চুরির মামলা” দিয়েছিলো; তাদের সহকর্মীদের দেয়া গার্ড অফ অনার, কিংবা আওয়ামী লিগের কৌশলী শোক বার্তা, কিংবা বিএনপির দেরিতে দেয়া কৌশলী শোক বার্তা দেখে মনে হয়, জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা, মরণে কেন তারে দিতে গেলে ফুল।

নতুন প্রজন্মের যারা উচ্চশিক্ষিত হচ্ছেন, দেশের কথা-মানুষের কথা ভাবছেন; তাদেরকে অলিগার্ক সমাজের কথিত রাইট হেডেড না হয়ে জাফরুল্লাহ’র মতো রঙ হেডেড হতে হবে। রাইট হেডেড লোক মারা গেলে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। আর রঙ হেডেড মানুষ মারা গেলে শোকের ও স্মরণের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।

ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী কখনোই সাবেক মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাননি, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছেন; নতুন প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন সংগ্রামী জীবনের অনুপ্রেরণা; যে জীবন ফুরায় না মৃত্যুতে।

The post রাইটলি রঙ হেডেড appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
বায়োলজিক্যাল বাবা মা হবার চেয়ে, সৎ বাবা মা হওয়া কঠিন https://sojakotha.com/%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/8567/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a6%be/ Sun, 15 May 2022 08:45:57 +0000 https://sojakotha.com/?p=8567 হোমারের ইলিয়ড পড়ছিলাম। সে এক এলাহি কাণ্ড! এতো এতো চরিত্র আর তাদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত! আমি তো স্রেফ এর পাঠক, ভাবছিলাম হোমার নিজে কিভাবে এমন একটি মহাকাব্য রচনা করলেন! ট্রয়ের হেলেনকে নিয়ে মহা ধুন্ধুমারকাণ্ড চলছে পুরো বইটা জুড়ে। পড়তে পড়তে পরিচয় হয় সবচেয়ে সুদর্শন যোদ্ধা একিলিস ও তার ল্যাফটেনেন্টদের সাথে। একিলিসের ল্যাফটেনেন্টদের মধ্যে দুজন অর্থাৎ মেনেনথিয়াস ও দুর্ধর্ষ ইউডোরাসের […]

The post বায়োলজিক্যাল বাবা মা হবার চেয়ে, সৎ বাবা মা হওয়া কঠিন appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
হোমারের ইলিয়ড পড়ছিলাম। সে এক এলাহি কাণ্ড! এতো এতো চরিত্র আর তাদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত! আমি তো স্রেফ এর পাঠক, ভাবছিলাম হোমার নিজে কিভাবে এমন একটি মহাকাব্য রচনা করলেন! ট্রয়ের হেলেনকে নিয়ে মহা ধুন্ধুমারকাণ্ড চলছে পুরো বইটা জুড়েপড়তে পড়তে পরিচয় হয় সবচেয়ে সুদর্শন যোদ্ধা একিলিস ও তার ল্যাফটেনেন্টদের সাথে। একিলিসের ল্যাফটেনেন্টদের মধ্যে দুজন অর্থামেনেনথিয়াসদুর্ধর্ষ ইউডোরাসের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে একটুচমকে যেতে হলো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ভেবেকিছুটা বিস্মিতও হলাম

মিথ অনুযায়ী, মেনেনথিয়াসইউডোরাস , তারা দুজনেই সৎ পিতার পরিচয়ে লালিত পালিত হয়েছিলোতারা দুজনই বায়োলজিক্যাল বাবা মায়ের প্রেমের ফসল। কিন্তু সে প্রেম পরিনতি লাভ করে নি। তাদের মায়েদের পরবর্তীকালে অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। মেনেনথিয়াস তার সৎ পিতা বোরাসইউডোরাস তার সৎ পিতা ফাইলাসের কাছে লালিত পালিত হতে থাকে। নিজ সন্তানের মতোই আদর স্নেহে তাদেরকে বড় করে তোলেন সেই সব সৎ পিতারা। এমন কি সৎ পিতার পরিচয়েই তারা বড় হয় এবং সামাজিকভাবেও সম্মানজনকঅবস্থানে থাকে। এবং আমরা দেখি যে, একটি শক্তিশালীসেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা দায়িত্বশীল রয়েছে। তাদেরজন্ম পরিচয় নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। অথচ আমাদের সমাজ হলে এই দুজনের একমাত্র পরিচয় হতো ঘৃণ্য জারজসন্তানস্থান হতো একেবারে আস্তাকুড়েঅথচ নিজের জন্মেরউপর একটি শিশুর কোনো হাত নেই। তবে সে কেন অবৈধসন্তান বা জারজ সন্তানের তকমা সারাজীবন বয়ে বেড়াবে? শাস্তি যদি দিতে হয়, তার দায়িত্বহীন বাবা মাকে দেয়া উচিতঅথচ এই শিশুটিও সমাজরাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় সম্পদ, তাকে কেন হেলাফেলায় জীবন্মৃতের মতো বড় হতে হবে?

জারজ সন্তানের কথা না বাদই দিলামখেয়াল করে দেখবেন, বর্তমানে দেশে ডিভোর্সের হার বেড়ে গিয়েছে। ফলে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানও কিন্তু বাড়ছেতাদের বাবা মা পরবর্তীকালে আবার বিয়ে করলেও, এই সন্তানগুলো অনেকটা অবহেলায় বেড়ে উঠছেকেউ তাদের আদরে গ্রহণ করছে না। আমার পরিচিত অনেক নারী রয়েছেন, যাঁরা ডিভোর্সের পরে আবার বিয়ে করেছেন, তাঁদের ২য় স্বামীও অনেক ভালোবেসেই তাঁদেরকে বিয়ে করেছেন, বিয়ের পর তাঁরা সুখী জীবন যাপনওকরছেন। কিন্তু স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানকে গ্রহণ করেন নি। সেই সন্তান হয়তো অন্য কারো আশ্রয়ে বাবা মা বিহীন , অনেকটা অনাথ অবস্থায় বড় হচ্ছে। অনেক শিশুর স্থান হয় এতিমখানায়এদিকে আবারশিশুর মা পরবর্তী বিয়েতে নতুন পরিবারে গঠন করে সুখী হলেও, আগের সন্তানটিকেকাছে না পাবার একটি চাপা হাহাকার বহন করে যাচ্ছেনদিনের পর দিন। যেন ‘’ দুই দিকে দুই খণ্ড হয়ে’’ পড়ে থাকা, এ এক নিদারু শূন্যতা

আমাদের দেশে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, সৎ বাবা-মায়েরা অত্যাচারী হয়ে থাকে। ছোটদের রূপকথা, গল্প, সিনেমাতেও এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই। এর যে বাস্তব উদাহরণ নেই, তাও নয়। তসলিমা মুন শেখের আত্মজৈবনিকগ্রন্থ ‘’যদ্দপি আমার গুরুপতিতেও সেই নমুনাই দেখতেপাই সৎ বাবার কাছে অনেক শিশু যৌন নিগ্রহের শিকারওহয়ে থাকে। আসলে বায়োলজিক্যাল বাবা মা হবার চেয়ে সৎ বাবা মা হওয়া সত্যিই কঠিনএকজনকে ভালোবেসে, তার সকল অতীত ইতিহাস মেনে নিয়ে তাকে গ্রহণ করতে পারলেও,তার সন্তানকে যেন গ্রহণ করা যায় না। ‘’লোকে কী বলবে’’ – প্রচলিত এই সামাজিক ভয়ের কারণেও অনেকে সাহস করেন না। আবার অনেকে মনে অজানা হিংসাঘৃণা পোষণ করে থাকেন, নিতান্তই একটি শিশুর প্রতি! এই হলো আমাদের মানসিকতার অবস্থা!

আবার অনেকে স্বামী/স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানকেভালোবেসে নিজ সন্তানের মতোই গ্রহণ করেন। কিন্তু তাতেওকি রক্ষা আছে? শত ভালোবাসলেও হয়তোসন্তান তাকে কখনো মন থেকে মেনে নিতে পারে না। আবার ‘’লোকে কী বলবে’’—সমাজ তো বসেই আছে নানা রকম বিরূপ মন্তব্য করার জন্য!সন্তানকে ভালোবাসলেও লোকে বলবে, ‘’সৎ বাবা/মা, নিশ্চয়ই কুমতলব রয়েছে, বেশি আদর করে নষ্ট করছে।‘শাসন করলেও লোকে বলবে, ‘’সৎ বাবা/মা, আসলহলে এমন করতে পারতো না।‘’ তাই এ সমাজে সৎ বাবা/মা হওয়া একটা চ্যালেঞ্জ বটে! অথচ সৎ বাবা/মায়ের সাথে শিশুর সুন্দরসহজ সম্পর্কে থাকাই কাম্যআবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, এখন দেশে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানবাড়ছেঅথচ এই সন্তানেরাও পারিবারিক সুন্দর আবহের অধিকার রাখে। কিন্তু সমাজ তাকে সুন্দর পরিবারেরঅভিজ্ঞতা দিতে পারছে না। এই শিশুরা বড় হচ্ছে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে। তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে চাকরি ক্ষেত্রেও তার যোগ্যতার চেয়েও, ব্রোকেন ফ্যামিলি সন্তান এটিকেই বড় করে দেখা হয়। এমন সন্তানদের সকল যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও প্রতিরক্ষা বাহিনীর অফিসার পদে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হয়। কারণ, তার শৈশব অন্যদের চেয়ে আলাদাগুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কাজের জন্য সে ফিট নয়, এরকম ভাবা হয়ে থাকে। এমন ভাবনা যে সব সময় অমূলকতা নয়। অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান তাঁর ‘’পরার্থপরতারঅর্থনীতি’’ বইতেও বলেছেন, ‘’ দীর্ঘমেয়াদে ভগ্ন পরিবারে সন্তানদের মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শুধু ক্যারিয়ারই নয়, কোন রোমান্টিকসম্পর্কেও অনেক ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়।

অথচ ইলিয়ডে আমরা দেখি, মেনেনথিয়াসইউডোরাসেরজন্ম পরিচয় নিয়ে ঐ সময়ের সমাজ মাথা ঘামায় নি। তাদেরসৎ পিতা নিজ সন্তানের মতো তাদেরকে লালন পালন করেছে, সুন্দর শৈশবপারিবারিক পরিবেশ দিয়েছেরাষ্ট্রেরসুনাগরিক হিসেবে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্বশীলতার সাথে তারা কাজ করতে পেরেছে

সন্তান লালন পালনে আমরা বায়োলজিক্যাল বাবা মাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু তারাও সব সময় বাবা মা হিসেবে আদর্শ হতে পারেন না। প্রসঙ্গত স্কুলে পড়া ভাবসম্প্রসারণের কথা মনে পড়ে,’’জন্মদাতা হওয়া সহজ, পিতা হওয়া কঠিন।‘পেরেন্টিং এর কাজটি সত্যিই কঠিনবায়োলজিক্যাল পেরেন্ট হলেও, সৎ পেরেন্ট হলেও।

তানিয়া কামরুন নাহার, লেখক ও শিক্ষক

 

The post বায়োলজিক্যাল বাবা মা হবার চেয়ে, সৎ বাবা মা হওয়া কঠিন appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
ঘর বানাইছি শূন্যেরও মাঝার https://sojakotha.com/%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/8445/%e0%a6%98%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%82%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d%e0%a6%be/ Fri, 08 Apr 2022 09:07:19 +0000 https://sojakotha.com/?p=8445 একটা ন্যারেটিভ প্রচলিত আছে; “ভারতবর্ষে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মুসলমান হইয়াছিলো”। সুপোরী গালে দিয়ে ভস ভস করে কিছু পচা হিন্দু এইরকম ইতিহাসান দাদা হয়ে বিরাজ করেন আমাদের আড্ডাগুলোতে। ব্লগ আসার পর; আগে পত্রিকা যাদের লেখা ছাপার উপযুক্ত মনে করতো না; তারা ব্লগার হয়ে এইসব ন্যারেটিভের ঘুঁটের ডালি মাথায় নিয়ে ঘুরছে। ব্লগের সেকুলার মানে তাকে এইরকম হীন ন্যারেটিভের […]

The post ঘর বানাইছি শূন্যেরও মাঝার appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
একটা ন্যারেটিভ প্রচলিত আছে; “ভারতবর্ষে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মুসলমান হইয়াছিলো”।
সুপোরী গালে দিয়ে ভস ভস করে কিছু পচা হিন্দু এইরকম ইতিহাসান দাদা হয়ে বিরাজ করেন আমাদের আড্ডাগুলোতে। ব্লগ আসার পর; আগে পত্রিকা যাদের লেখা ছাপার উপযুক্ত মনে করতো না; তারা ব্লগার হয়ে এইসব ন্যারেটিভের ঘুঁটের ডালি মাথায় নিয়ে ঘুরছে।
ব্লগের সেকুলার মানে তাকে এইরকম হীন ন্যারেটিভের প্রচারক হতে হবে যেন। মানে আপনাকে এই ন্যারেটিভের ভক্ত হলে, অসাম্প্রদায়িকতার পৈতে পরিয়ে দেবেন বলদাদা।
আমার শৈশব-কৈশোর-তারুণ্য কেটেছে, হিন্দু ধর্মের আত্মীয়-বন্ধুদের সান্নিধ্যে। আড়ানীতে ক্ষিতিশ মৈত্র আর আমার ছোট নানা মোমতাজ আহমেদ প্রতিবেশী ছিলেন, আম্মার দাদী ছিলেন, ক্ষিতিশ মৈত্রের মায়ের মতো । আমি আড়ানীতে গেলে ক্ষিতিশ মৈত্রের বাড়ি ছিলো আরেকটি নানা বাড়ি।
ঈশ্বরদী আব্বার সাংস্কৃতিক সক্রিয়তার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলেন উনার সহকর্মী অধ্যাপক নর নারায়ণ রায়। অধ্যাপক অরবিন্দ ঘোষ ছিলেন আব্বার থিয়েটারের সখা। আমি স্কুলে গেলে আব্বার কলিগ অসিত কাকার বাসায় টিফিন পিরিয়ডে যেতাম লাঞ্চ করতে।
স্কুলে বন্ধু পরিমল, সত্যজিত ছিলো প্রাণের সখা। ইউনিভার্সিটি জীবনের শুরুতে ভারতে পড়ার তাল তুলে কলকাতায় গিয়ে লাক্সমির সঙ্গে যে বন্ধুত্বের অধিক সখ্য; সেখানে হিন্দু মুসলমানের মাঝে জোর করে তুলে দেয়া বিভেদের প্রাচীর দেখিনি।
ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে কবি বন্ধু তাপস জগন্নাথ হলে নিয়ে গিয়ে লাঞ্চ করিয়ে ওর রুমে নিয়ে যেতো। ওর বিছানায় আমি সিয়েস্তা করতাম; আর ও টেবিলের সামনে বসে ওর লেখা নতুন কবিতা পড়তো।
বিতর্কের প্রস্তুতিতে বিনায়ক সেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যেভাবে অর্থনীতি শেখাতেন, নিজের অমূল্য সময় একজন তরুণের জন্য বরাদ্দ করতেন; সে কৃতজ্ঞতা আজো আমাকে আচ্ছন্ন করে।জার্মানীতে যাবার পর সুপ্রিয়দা, সঞ্জীব, উজ্জ্বলদা, অরুণদা, মহেশদা, চঞ্চল ছিলো; প্রাণের খুব কাছের মানুষ। সুপ্রিয়দা সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে আমাকে মঞ্চে বসিয়ে দিতো এমনভাবে যে ছবি দেখলে কৌতুক বোধ হবে যে, আমি সেখানে পুরোহিত কীনা। আমি রোজা রাখলে, ইফতার জোগাড়ে দৌড়ে যেতো সঞ্জীব, প্রবাসের ঈদে ভালোমন্দ খাবার আয়োজন করতো সুপ্রিয়দা।
সেইসময় ভারত থেকে লেখক-কবি-সাংবাদিক যে-ই আসতেন, সুপ্রিয়দা আমাকে নিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে জুড়ে দিতেন।
সুনন্দা রাও, মৃদুলা সিং, দেবারতি গুহ ছিলো জার্মানির জীবনের প্রাণদায়ী বন্ধু। দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে আমাকে বিদায় জানাতে যারা এসেছিলো, ফারুক ভাই-মুনাযযা ছাড়া, সবাই আমার ভারতীয় বন্ধু।

জীবনের এই অনুপম সুন্দর অভিজ্ঞতার পর ব্লগে এসে দেখলাম জীবনের কুতসিত এক চেহারা। হিন্দুত্ববাদী কুলদাদুর সঙ্গে নিও সেকুলার কিছু কুদ্দুস সংস্কৃতায়ন, ঝুলে ঝুলে বলছে, নিম্ন বর্ণের হিন্দুরাই মুসলমান হয়েছিলো। বাঙালি মানে বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমান নীচু জাত।

আমি এই প্রশ্ন নিয়ে গেলাম আমার স্ত্রী মুনাযযা ও বন্ধু সুনন্দা রাও-এর কাছে।

মুনাযযা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মানুষ। সে বললো, তুমি তো আমার চেয়ে অনেক বেশি এভলভড।

রাজপুত সুনন্দা হাসতে হাসতে বলে, আজকাল কার কার সঙ্গে মিশো বলো তো! এসব ছাড়ো তো; চলো দেখা করি; কতদিন শিভা লাউঞ্জে যাইনা আমরা!

দক্ষিণ এশিয়ার ডিএনএ নিয়ে ডিএনএ এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলাম। এর আগে ২০০২ সালে মাল্টায় এক বৃটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন ডিএনএ এক্সপার্ট, তিনিই শেকড় খুঁজে বের করার পদ্ধতিটি প্রথম শেখান আমাকে।

গোবরায়তনের নোংরা ন্যারেটিভে বিরক্ত হয়ে আবার নিজের ডিএনএ হয়ে শেকড়ের কাছে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছি আমি।

এরকম পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ গবেষণা ভারতে হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আফ্রিকা, পারস্য, মধ্য এশিয়া আর ফার ইস্ট থেকে চারটি অভিবাসন ঢেউয়ে মানুষ এসে বসতি গড়েছে ভারতবর্ষে। তার মানে সান অফ দ্য সয়েল বলে কিছু নেই এখানে। তাহলে বর্ণ আসলো কোত্থেকে! উচ্চ বর্ণ-নিম্নবর্ণ এগুলো কী!

এই জায়গাটা ব্যাখ্যা করি, ভারতবর্ষে হিন্দু ধর্মের যারা ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হলো, ধরা যাক আওয়ামী লীগ, তারা বলে দিলো, যারা ফর্সা-উঁচা-লম্বা; এইগুলি উচ্চ বর্ণ; মানে ভি আই পি কালচারের স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি। সেইকালের ইতিহাসান দাদু মুনতাসির ফ্যান্টাসি লিখলো,ভারত গড়ে উঠেছে ব্রাহ্মণ লীগের শৌর্যে বীর্যে। ক্ষত্রিয়রা ভারতমাতার পাহারাদার হিসেবে ক্ষত্রিয় লীগ। বৈশ্যরা চাঁদা দিয়ে মন্দির প্রতিষ্ঠায় ভূ্মিকা রাখায় তারা টেকাটুকা লীগ।

কিন্তু বাকিরা ভারতের স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি; ওদের দলিত বানানো প্রয়োজন। ওরা নিম্নবর্ণ।

মুনতাসির ফ্যান্টাসিতে আসক্ত হয়ে সবাই দলিতের দলাই মলাই শুরু করে।

এইসময় মেভলানা রুমীর সূফি দর্শন গীতিকার গায়ক পাখিদের পরিব্রাজনে নৌপথে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মুক্তির বারতা পায় তাতে; সাম্যের আহবান পায়।

এই কোমল চিন্তাপথে ঢুকে পড়ে আরেক ভি আইপি দল; এরা মুসলিম শাসক। রোটি কাপড়া মকানের শ্লোগান দিয়ে এসে; আবার তারা আশরাফ সহমত ভাই গড়ে। তাদের ইতিহাসান ভাই, মজহার ফ্যান্টাসিতে নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তির অগ্রসেনানী বলে গুনগান করে মুসলিম শাসকের। নিশান-ই-তারিখ পদক জিতে ইতিহাসান ভাই বিরাট ন্যারেটিভের ডিব্বা হয়ে পড়ে। উচ্চ নগরীতে থাকে তখন আশরাফ ভি আইপি। আর নিম্ননগরীতে চলে আতরাফের দলাই মলাই।

বৃটিশ এই ব্রাহ্মণ আর আশরাফদের বাহাদুর খেতাব দিয়ে উপনিবেশের গোড়াপত্তন করে; হিন্দু-মুসলমান বিভাজনের ফাটল রেখার সুযোগে, দিল্লীর কোহিনূর নিয়ে গিয়ে লন্ডনে কুইনকে উপহার দেয়। ভারতবর্ষের দুর্নীতির টাকায় তৈরি হয় থাগস-দের সেকেন্ড হোম।

ঐ হিন্দু মুসলমান ফাটল পথে আর ব্রাহ্মণ-আশরাফ দ্বন্দ্বে ভারত ভেঙ্গে দুইখানা হয়। কংগ্রেস চায়, হিন্দু মুরগী থাকবে ভারতের খোয়াড়ে। মুসলিম লীগ চায়, মুসলমান মুরগী থাকবে পাকিস্তান খোয়াড়ে।

এর মাঝে পূর্ব বঙ্গ ছিলো সরল নদী মানুষের দেশ। এইখানে প্রথম হিন্দু জমিদাররা সাধারণ মানুষকে দলাই মলাই করে; টাকা চুরি করে কলকাতায় সেকেন্ড হোম বানায়। এরপর মুসলমান জমিদার সাধারণ মানুষকে দলাই মলাই করে, পিন্ডিতে সেকেন্ড হোম বানায়।

দুই জমিদার খেদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বিতাড়িত হিন্দু ও মুসলমান জমিদারের প্রেতায়িত আত্মা এইখানে ন্যারেটিভের প্রক্সি ওয়ার করে। তৈরি হয় গোবরায়তন। চলতে থাকে, গালাগালিভারস ট্রাভেলস।

মুনতাসির ফ্যান্টাসি বনাম মজহার ফ্যান্টাসি নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করে দুইদল লোক। মুনতাসির ফ্যান্টাসির কাছে সংস্কৃতি মানেই হিন্দু সংস্কৃতি, মজহার ফ্যান্টাসির কাছে আবার সংস্কৃতি মানেই মুসলিম সংস্কৃতি।

এই “ফইন্নির ঘরের ফইন্নির” যুদ্ধের বাইরে, আমাকে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রুমী। আমাকে মিলনের আহবান শুনিয়েছিলো লালন। আর হাসন রাজা বলেছিলো, যদি এই শ্বাপদ সংকুল ফইন্নি সাম্রাজ্যে তোমার ঘর বাড়ি ভালা না লাগে, ঘর বানাও শূন্যেরও মাঝার।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে তাই আবার হাঁটতে শুরু করলাম রুমীর হৃদনগরীর দিকে। কনিয়েতে হৃদনগরীতে সাম্য চিন্তার বন্ধুত্বের আবাহনে শুনলাম জীবনের মন্ত্র, লিভ, লাফ এন্ড লাভ।

The post ঘর বানাইছি শূন্যেরও মাঝার appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
দেশপ্রেমিক’ ভারতীয় বেনিয়ার কীর্তি! https://sojakotha.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac/details/8275/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf/ Tue, 15 Feb 2022 09:03:41 +0000 https://sojakotha.com/?p=8275 এবিজি শিপইয়ার্ড। কোম্পানির ব্যাঙ্ক প্রতারণার আর্থিক পরিমাণ ২২,৮৪২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২৮টি ব্যাঙ্কের সম্পদ জড়িত। শোনা যাচ্ছে, অধিকাংশ টাকাটাই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। ‘দেশপ্রেমিক’ ভারতীয় বেনিয়ার কীর্তি, নিঃসন্দেহে! আশ্চর্য হচ্ছি না। টাকার পরিমাণ বেশি বলেই চোখে লাগছে। পাশাপাশি ভারতী শিপইয়ার্ড। এরও শোনা যায়, অনাদায়ী ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৭৩ কোটি […]

The post দেশপ্রেমিক’ ভারতীয় বেনিয়ার কীর্তি! appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
এবিজি শিপইয়ার্ড। কোম্পানির ব্যাঙ্ক প্রতারণার আর্থিক পরিমাণ ২২,৮৪২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২৮টি ব্যাঙ্কের সম্পদ জড়িত। শোনা যাচ্ছে, অধিকাংশ টাকাটাই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। ‘দেশপ্রেমিক’ ভারতীয় বেনিয়ার কীর্তি, নিঃসন্দেহে!

আশ্চর্য হচ্ছি না। টাকার পরিমাণ বেশি বলেই চোখে লাগছে।

পাশাপাশি ভারতী শিপইয়ার্ড। এরও শোনা যায়, অনাদায়ী ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা।

এছাড়াও, ‘ছোটভাই’ আম্বানির একটা কোম্পানি রিলায়েন্স ন্যাভাল, ব্যাঙ্কের দেনার পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা। কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে ২৭০০ কোটি টাকায়। অবশিষ্ট অর্থ? ইন দ্য ভোগ অব মা! এবং এই লোকটির সব কোম্পানি মিলিয়ে ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ঋণের পরিমাণ, ভগবান নিজেও জানেন না!

কার টাকা গেল? ব্যাঙ্কের? সরকারের?
কাদের ক্ষতি হবে? ব্যাঙ্কের কর্মীদের? চুল!

পুরো টাকাটাই সাধারণ মানুষের। আমজনতার। যাঁরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ শুধুমাত্র ব্যাঙ্কেই জমা রাখতে অভ্যস্ত, ব্যাঙ্কের সুদের ওপর যাঁদের জীবনযাপন নির্ভরশীল, তাঁদের। ব্যাঙ্কে জমা রাখা তাঁদের টাকার উপর সুদের হার ক্রমাগত কেন কমে যায়, যাচ্ছে, কেউ ভাবতে চেষ্টা করেন? পাশাপাশি ‘রাষ্ট্রীয়’ নিরাপত্তায় নিশ্চিন্ত ভদ্রবিত্তদের ফ্ল্যাট বা গাড়ি কেনার জন্য ঋণের উপর সুদের হার ক্রমশই কমে যায় কেন, বুঝতেও?

ডাকাত-রা দেশ শাসন করলে, চোর-বেনিয়াদের প্রতারক হয়ে ওঠাই প্রত্যাশিত।

তবে এর জন্য একা বিজেপি দায়ী নয়, দয়া করে ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা’র গরুর রচনা নামাবেন না সব জায়গায়! বিরক্ত লাগে।

আর্থিক উদারনীতি কংগ্রেসের অবদান। অবশ্যই শাসক শ্রেণির সর্বসম্মতিক্রমে। বিজেপি কংগ্রেস-অনুসৃত অর্থনীতির ঘোড়াকেই আরও দ্রুতগতিতে ছোটাচ্ছে। বেনিয়ারা ওদের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছে, কংগ্রেসকে সরিয়ে, এই জন্যই তো!

প্রসঙ্গত ব্যাঙ্ক প্রতারণার বড়ো ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত বেনিয়াদের প্রায় সবাই গুজরাটের বাসিন্দা। এবং প্রত্যেকেই ‘গর্বিত’ হিন্দু।

গুজরাটের মাটিতে কী সোনা ফলে!
বীভৎস সাম্প্রদায়িক গণহত্যার নায়ক রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে, ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা মামলায় ‘অভিযুক্ত’ হয়ে কারাগারে বন্দি থাকার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকটি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী — মাটির গুণ আছে, স্বীকার করতেই হয়!

বাংলা-বাঙালি নিয়ে আমার চেতনায় কোনও ‘জাতীয়তাবাদী’ আবেগ কাজ করে না কিন্তু।

জনগণ অবশ্য সচরাচর তাঁদের প্রাপ্যটুকুই পেয়ে থাকেন।

– কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ‍্যায়

কলকাতা ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২২

The post দেশপ্রেমিক’ ভারতীয় বেনিয়ার কীর্তি! appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
খবরদার তিনজন বসে যেন একসঙ্গে চা না খায় https://sojakotha.com/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/8245/%e0%a6%96%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%99/ Sat, 29 Jan 2022 20:00:39 +0000 https://sojakotha.com/?p=8245 প্রাজ্ঞ সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী অনেকদিন পর জাতীয় সংসদে বাঙালি মনীষার আলো জ্বেলেছেন। স্বদেশ ভাবনায় দেশের সংকট ও তা অতিক্রমের রোডম্যাপ দিয়েছেন বারো মিনিটের বক্তৃতায়। এই ভাষণটি আকাশে উড়ছে আলোর ঘুড্ডি হয়ে। পুরো সংকটের যে গোড়ার কথাটি, তা তিনি একটি লাইনে বলেছেন। যেদেশের তিনটি প্রধান দলের নেত্রী গত ২১ বছরে একসঙ্গে বসে চা খাননি; সেদেশে […]

The post খবরদার তিনজন বসে যেন একসঙ্গে চা না খায় appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
প্রাজ্ঞ সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী অনেকদিন পর জাতীয় সংসদে বাঙালি মনীষার আলো জ্বেলেছেন। স্বদেশ ভাবনায় দেশের সংকট ও তা অতিক্রমের রোডম্যাপ দিয়েছেন বারো মিনিটের বক্তৃতায়। এই ভাষণটি আকাশে উড়ছে আলোর ঘুড্ডি হয়ে। পুরো সংকটের যে গোড়ার কথাটি, তা তিনি একটি লাইনে বলেছেন। যেদেশের তিনটি প্রধান দলের নেত্রী গত ২১ বছরে একসঙ্গে বসে চা খাননি; সেদেশে বহিঃশক্তি তো আঘাত হানবেই; এ হচ্ছে তার বক্তব্যের নির্যাস।
এ প্রশ্নের উত্তর নিজে খুঁজেছি অনেকক্ষণ। পৃথিবীর আর কোন গণতান্ত্রিক দেশে এরকম মুখ দেখাদেখি বন্ধের নজির নেই। এটা কেবল বাংলাদেশের কালচারেই সম্ভব। জমির ভাগাভাগি নিয়ে ভাইয়ে-ভাইয়ে, বোনে-বোনে সব রকম সম্পর্কের রসায়নে ‘শতবছরের কাইজ্জা’-র ইতিহাস কেবল এইখানে। এইখানে সম্পদ ও স্বার্থের বাইরে কেউ এক ইঞ্চি যেতে পারে না। এইখানে ‘লেবু চিপে তেতো’ করার সব রকম পদ্ধতি চালু আছে। এইখানে স্বার্থ ও বিষয়বুদ্ধির বাইরের মানুষেরা আউটসাইডার; তারা ঢাকায় থাকলেও নিঃসঙ্গ দ্বীপের বাসিন্দা। আর দেশান্তরী হলে সেই বুঝি দু’দণ্ড শান্তি; জীবনানন্দের দু’দণ্ড শান্তি পাওয়ার বনলতা সেন; সেই এসকেপিজম বা পালিয়ে বাঁচা।
এই যে আমরা সবাই মিলে তিনজন নারীর ওপর সব দায় চাপিয়ে ইনডেমনিটি পেতে চাইছি; এতে কী শেষ রক্ষা হবে! এই তিনজন নারী একটি রক্ষণশীল সমাজে বেড়ে ওঠা নানারকম অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার নারী। জার্মান নেত্রী আঙ্গেলা ম্যারকেল, নিউজিল্যান্ডের জোসিন্ডা, কিংবা অতীতের মার্গারেট থ্যাচারের মতো মুক্ত শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য কোনটিই কী পেয়েছেন বাংলাদেশের এই তিন নারী। তিনজন অবরোধবাসিনীকে রাজতন্ত্রের সামন্ত দাবীতে সিংহাসনে বসিয়ে দিয়ে; গণতন্ত্র খুঁজছি আমরা। বাংলাদেশের মানুষ জীনগতভাবে রাজা-রাণী-জমিদার শাসনে প্রস্তুত। ফলে তারা আজন্ম প্রজা। নাগরিক হবার মতো মানসিকতাই গড়ে ওঠেনি। কীকরে এখানে আমরা কল্যাণ রাষ্ট্র আশা করি, বাকস্বাধীনতায় উদ্বেল সচল সমাজ চাই। কী চারা লাগিয়েছি যে আজ শতফুল ফোটার স্বপ্ন বৃক্ষ চেয়ে কষ্ট পাই আমরা।
স্মার্টনেস ব্যাপারটা কী শিফন কিংবা জামদানিতে থাকে, নাকি কোটে থাকে, নাকি সাফারিতে থাকে! ওটা তো থাকে মস্তিষ্কে। এই মস্তিষ্ক বাড়তে হয় শৈশব থেকে। যে মেয়েটির ছবি আঁকা-কবিতা লেখা-গান গাওয়ার ক্ষমতার লালন না করে; বিশ্ববীক্ষায় শিক্ষিত না করে; কেবল বিয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে; তিনি কী করে মানুষকে মুক্তির পথ দেখাবেন। সোশ্যাল কন্ডিশনিং তার মধ্যে ক্রোধ, অহংকার, প্রতিশোধ, ছোট স্বার্থ চিন্তা ছাড়া আর কী দিতে পারে! এই চোখের বদলে চোখ, ঘৃণা-বিদ্বেষের সমাজে; তিনটি অলীক বৃক্ষ চেয়েছে মানুষ। ঐ যে রক্তে জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে জুতা খুলে হেঁটে যাবার; ঝুঁকে যাওয়া, কুঁচকে যাওয়া; এই যে তেলাঞ্জলির বিনিময়ে রাণীর অনুকম্পা প্রার্থনা করার যে ডিএনএ, সে কী করে সভ্যতার দাবী নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবে!
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বৃটিশ আমলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, উপায়হীন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃটিশ বিরোধী সংগ্রাম করেছে। সেখানে যুক্ত হয়েছে সমাজের স্বশিক্ষিত মানুষেরা। ফলে ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা এসেছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিতরা কৃষক-শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে ভাষা আন্দোলন থেকে নবজাগরণের সরণি ধরে মুক্তিযুদ্ধে পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশকে। তখন তারা সামাজিক গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছে; সামাজিক সুবিচারের স্বপ্ন দেখেছে।
স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পাবার পর জাতির জনক বিস্মিত হয়েছেন, চোরের খনির চাটার দল দেখে। ঔপনিবেশিক ডান্ডার ভয়ে চোরগুলো মুক্তিকামী মানুষের মিছিলে ঢুকে গিয়েছিলো । এরা হচ্ছে ফিফথ কলামনিস্ট একটিভিস্ট। থাগস অফ ইস্ট বেঙ্গল। শুধু চুরি করে সুবিধা হচ্ছে না; ফ্রি স্টাইলে ডাকাতি করা যাচ্ছে না; এই আক্রোশে তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমানকে হত্যা ও এরশাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে একই ব্যাপার। ফিফথ কলামনিস্টরা হাসিনা-খালেদাকে সামনে রেখে লুটপাট করতে চেয়েছে। এতো রক্ষণশীল সমাজে বেড়ে ওঠা দুটো মেয়ে চোর-ডাকাত চিনবে কী করে! এরপর আরেকদল রঙ্গিন চোর রওশনকে সামনে এগিয়ে দিয়ে সমানে লুটপাট করে চলেছে।
যেহেতু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ; এইখানে পুরুষের সামনে চোর চুরি করতে ভয় পায়। সেইভয় বঙ্গবন্ধু-জিয়া-এরশাদকে পেয়েছে। হাসিনা-খালেদা-রওশনকে চোরেরা ভয় কম পায়। আমরা নিজেরাও শৈশবে আব্বা ট্যুরে যাচ্ছেন শুনলে আনন্দে মাথা খারাপ হয়ে যেতো। ভাবতাম, আম্মাতো আমাদের ‘লটর-পটর’ ধরতে পারবেন না। আমার প্রয়োজন না থাকলেও আম্মার ব্যাগ থেকে টাকা সরাতাম। কারণ আম্মা ছোট খাট চুরি ধরতে পারতেন না। আব্বার পকেট থেকে দশটাকা সরাতেই আব্বা বলেছিলেন, আমার তো হিসাব থাকে। তোমার আম্মার ব্যাগ থেকে নিও, ধরতেও পারবে না। এরপর সোজা হয়ে গেছি স্বভাবতই।
বঙ্গবন্ধু এক সভায় বলেছিলেন, ঐ লটর পটর করিসনা। আমার চোখের বাইরে গেলেই তো তোরা লটরপটর করিস।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে থোড়াই কেয়ার করে। দক্ষিণ এশীয় নারী সরল, মায়াময়, বিশ্বাসপ্রবণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা বঞ্চিত। তাকে দিয়ে ফেইক জন্মদিন পালন করানো যায়, তাকে প্রতিশোধে প্রবৃত্ত করা যায়, তাকে বোকা বানানো যায়।
‘উনাকে ভুল বোঝানো হয়েছে’-এই বাক্যটি নিয়ে আমরা হাসি। কিন্তু প্রতিদিন তিন নেত্রীর সঙ্গে যারা কথা বলেন, তারা কানভারি করতে আসেন। কানভারি করাটা বাটপারি ব্যবসার প্রধান মূলধন। শুধু কান ভারী করার ক্ষমতার কারণে কত লোক কুঁড়ে ঘর থেকে প্রাসাদ করেছে; আগে পান্তা খাইতো এখন পাস্তা খায়। আগে মাথায় সরিষার তেল দিতো, এখন জেল দেয়।
আমি বরং এই তিন নারীকে ট্র্যাজেডির নায়িকা হিসেবে দেখি। দেখতে সুন্দর, মায়াময়, আবেগপ্রবণ তিনজন নারী, নরভোজি সমাজের গ্ল্যাডিয়েটরের দর্শক হলেন, এরপর নিজেরাও নরভোজে অভ্যস্ত হলেন। সারাটা জীবন দেশের মানুষকে ভালোবেসে, এখন দেশের সব দুর্গতির জন্য দায়ী হচ্ছেন তারা। অথচ থাগস অফ বেঙ্গল তাদেরকে ব্যবহার করেছে, নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের শিখণ্ডি হিসেবে।
উনারা যাতে একসঙ্গে চা খেতে না বসেন, সেই চেষ্টায় দেখবেন ফেসবুকে প্রাণপাত করে চলেছেন, ফইন্নির ঘরের ফইন্নিরা। হাওয়া-সুচিন্তা-রাঙ্গা ভবন বানিয়ে ভিক্ষা করে রাজপ্রাসাদ গড়ার খায়েশ পূর্ণ করেছে যারা কিংবা এরকম ফইন্নি আশায় আছে যারা। এই সেই থাগস অফ বেঙ্গল যারা নিরীহ পথচারীকে রুমালের ফাঁস দিয়ে হত্যা করতো। এই সেই ডিন এন এ, যা এখন পাঁচতারকা হোটেলের সুইমিংপুলে উন্নয়নের জেলিফিশ হয়ে সাঁতার কাটে। উনারা তিনজন একসঙ্গে বসে চা খেলে যদি আবার কাছা মেরে খালে বিলে গামছা দিয়ে মলা-ঢেলা-কেঁচকি ধরে খেতে হয়! সুতরাং কানভারির সমস্ত পিঁপড়া বিদ্যা দিয়ে উনাদের চা-খাওয়া ঠেকাতে হবে। আমরা কিন্তু ঠিকই সর্বদলীয় চোর ভাইয়েরা বসে গ্লোরিয়া জিনসে ক্যাপাচুনো খাবো।
– মাসকাওয়াথ আহসান, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষক

The post খবরদার তিনজন বসে যেন একসঙ্গে চা না খায় appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
আমাদের রাজনীতি ও বাস্তবতা https://sojakotha.com/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/7933/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%a4/ Wed, 06 Oct 2021 09:25:44 +0000 https://sojakotha.com/?p=7933 আসলে আমরা কি রাজনীতি করছি? কোন রাজনীতি করছি? বা আদৌ কি আমরা রাজনীতি করছি? এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি অনেকদিন ধরেই। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিস্ঠ পক্ষ রাজনীতি করছে এটা আমি হলফ করে বলতে পারি; কারন তারা যা যা করছেন তা কোন না কোন রাজনীতির ধারায়ই পরে। হতে পারে সেটি দুষ্টু রাজনীতি; কারো কারো মতে অপ- রাজনীতি; তবে […]

The post আমাদের রাজনীতি ও বাস্তবতা appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
আসলে আমরা কি রাজনীতি করছি? কোন রাজনীতি করছি? বা আদৌ কি আমরা রাজনীতি করছি? এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি অনেকদিন ধরেই। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিস্ঠ পক্ষ রাজনীতি করছে এটা আমি হলফ করে বলতে পারি; কারন তারা যা যা করছেন তা কোন না কোন রাজনীতির ধারায়ই পরে। হতে পারে সেটি দুষ্টু রাজনীতি; কারো কারো মতে অপ- রাজনীতি; তবে রাজনীতি নিঃসন্দেহে; যেখানে আমরা যারা এটাকে পছন্দ করছি না, তাদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করছে; এমনকি কেউ কেউ জীবন সংশয়ে দিনাতিপাত করছেন। কিন্তু এই রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা কোন রাজনীতি করছি? যা করছি সেখানে রাজনীতিটা কোথায়?
আমার জানামতে সরকার পক্ষ একটি আদর্শ নির্ধারণ করে তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন; প্রাতিষ্ঠানিকতা দিয়ে সেই আদর্শকে পরিপুস্ট করছেন প্রতিনিয়ত। এরই ধারাবাহিকতায় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা তাদের আদর্শিক লেবাসে জড়িয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন; এটা তাদের সার্থকতা, সফলতা। সেই আদর্শ ও প্রায়োগিক সিস্টেমকে আমার পছন্দ না হলেও, যারা সেটি পছন্দ করছেন, ধারন করছেন, তারা সেটি এগিয়ে নিচ্ছেন, নিবেন, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু আমরা সেই আদর্শের বিপরীতে কি কোন আদর্শ ধারন, প্রচার বা বিকশিত করার চেষ্টা করছি কি? বা আদৌ কোন আদর্শ কিভাবে ধারন করে, কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় সেটি বোঝার মতো বোধ আমাদের রয়েছে কিনা সেটাই এখন বিবেচনার বিষয়। সমস্যা হচ্ছে ২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে আমাদের (সরকার পক্ষের বিপরীতে অবস্থিত সবাই) মধ্যে এই সকল আদর্শিক বিষয়গুলো শিকয়ে তুলে দেয়া হয়েছে, যে কারনে আজকের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় চলছে চলবে, যতক্ষন পর্যন্ত না এই অবস্থার পরিবর্তনে রাজনৈতিক ও আদর্শিক ধারার সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া না হয়।
আমরা ভুলেই গেছি, রাজনৈতিক কর্মসূচির নাম রাজনীতি নয়, যদি না তা আদর্শের উপর ভিত্তি প্রণীত হয়। বিভিন্ন দল এখন কর্মসূচী পালন করে; রাজনীতি নয়, কারন এদের অধিকাংশ এখন আদর্শ ধারন করে না; আদর্শ ধারন করা বোঝেই না। এরা হচ্ছে ব্যক্তি সর্বস্ব ও মোসাহেব নির্ভর এক একটি রাজনৈতিক নামধারী ক্লাব মাত্র। এরা বুঝতেই চায় না সরকারে অবস্থারতপক্ষ কেন অন্যপক্ষকে এমন সুযোগ দেবে যাতে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতাই বেহাত হয়? পুঁজিবাদী বিশ্ব- রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এমন দরবেশ টাইপ আদর্শের কি কোন উদাহরন রয়েছে?
রাজনীতিতে অবশ্য একটা বিষয়ে সরকার ও প্রতিপক্ষের দারুন মিল, সেটি হচ্ছে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, আর সে জন্য রাজনৈতিক আক্রমনের পরিবর্তে ব্যক্তি আক্রমন হচ্ছে সকল পর্যায়ে। চরিত্র হরন হচ্ছে সর্বত্র। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে হ্যান্ডকাফ পরে কিন্তু বন্দী সোসাইটি গার্লদের রানীর মতো আপ্যায়ন করা হয়। কারন একটাই আদর্শিক রাজনীতির অভাব। সরকারপক্ষ বলছি এই কারনে যে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগও আদর্শহীন হয়ে পড়েছে, এটা বুঝেই নীতি নির্ধারকেরা রাষ্ট্রযন্ত্রকেই তাদের আদর্শিক অবস্থানে পরিবর্তিত করে নিয়েছে। প্রতিপক্ষ আমরা যদি এটি বুঝতে না পারি তবে বনবাসে আরও বহুকাল থাকতে হলেও আশ্চর্য হবো না।
শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ,
প্রেসিডেন্ট, লিবারেল পার্টি বাংলাদেশ

The post আমাদের রাজনীতি ও বাস্তবতা appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
‘কেন রক্ত পান করো হে শাসক; খুশিজল পান করো https://sojakotha.com/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/7825/%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%95-%e0%a6%96%e0%a7%81/ Wed, 16 Jun 2021 12:37:57 +0000 https://sojakotha.com/?p=7825 আশির দশকে দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আহমেদুল কবির তাঁর এক কলামে অনুরোধ রেখেছিলেন, বাংলাদেশের তারুণ্যের জন্য বিয়ার-এর মতো খুশিজল উন্মুক্ত রাখতে। যাতে ১৮ বছর পেরিয়েছে এমন যে কেউ মন চাইলে এই পানীয় পান করতে পারে। আহমেদুল কবিরের এই লেখা পড়ে মুখ টিপে হেসেছিলেন ক্ষমতা কাঠামোর ব্লু লেভেলের মওদুদ আহমাদেরা। এসব কথা কী কেউ প্রকাশ্যে বলে নাকি! […]

The post ‘কেন রক্ত পান করো হে শাসক; খুশিজল পান করো appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
আশির দশকে দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আহমেদুল কবির তাঁর এক কলামে অনুরোধ রেখেছিলেন, বাংলাদেশের তারুণ্যের জন্য বিয়ার-এর মতো খুশিজল উন্মুক্ত রাখতে। যাতে ১৮ বছর পেরিয়েছে এমন যে কেউ মন চাইলে এই পানীয় পান করতে পারে।

আহমেদুল কবিরের এই লেখা পড়ে মুখ টিপে হেসেছিলেন ক্ষমতা কাঠামোর ব্লু লেভেলের মওদুদ আহমাদেরা। এসব কথা কী কেউ প্রকাশ্যে বলে নাকি! রাতে ব্লু লেভেল খেয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, ‘অমুক মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে হবে। কিন্তু সে তো স্বপ্নের গোপন রহস্য। ইসলামি ভোট ব্যাংককে জানতে হয়, রাষ্ট্রপতি বড্ড ইসলামের সিপাহসালার।

এই ঢাক ঢাক গুড় গুড়ে আশির দশক থেকে বাংলাদেশ ছেয়ে গেলো ফেনসিডিলে। কর্পোরেট জগতে কিংবা সিভিল সার্ভিসে যারা সুব্যবস্থাপনা দিতে পারতো; তারা টেনিসনের লোটাস ইটারদের মতো ফুলের মাঝে ঘুমিয়ে পড়লো ফুলের মধু খেয়ে।

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবৃত্তটি ঝরে গেছে নানারকম ‘লোডস অফ সুইফট ডেভেলপমেন্ট(এলএসডি)-র নেশায়। ফেনসিডিল, হেরোইন, এক্সট্যাসি, কোকেন ইত্যদি নানা নেশায় চুর হয়ে তারা জীবন্মৃত বেঁচে রইলো। ফলে যারা বিসিএস গাইডের নেশায় বুঁদ থাকলো; সেই দ্বিতীয় বেঞ্চের গ্রন্থকীটেরা উঠে এলো ব্যবস্থাপনায়। তাদের কারো কারো আবার বেশি বয়েসে যৌবন আসায়; তারা ভোট ফর বোট ক্লাব তৈরি করে; সেইখানে প্রজাপতির আপিস বসিয়ে দিলো। যৌবনকালে পরীক্ষার পড়ায় নিমগ্ন থেকে বিগতযৌবনে হঠাত যৌবনের বান ডাকলে যে বিপদ হয়; সেরকম একটা বিপদের মধ্যে বাস করছি আমরা।

আরেকদল ইহজনমের স্বাভাবিকতা স্থগিত রেখে পরকালের ৭২ হুরের নেশায় এমন দিওয়ানা যে; তারা ‘খিলাফত প্রতিষ্ঠার’ নেশায় শরিয়াহ আইনের ফতোয়াবাজ হয়ে উঠলো। ফলে তাদের খুশি রাখতে এসে গেলো একসেস টু টেকাটুকা (এটুটু)-র ধর্মীয় অনুভূতির মডেল মসজিদের প্রকল্প। পলেস্তরা হাতের সঙ্গে উন্নয়নের রহমত হয়ে উঠে এলেও; তারা বিল বোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়, শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে সহমতের ইমান ধইরা রাখাই ধর্মীয় নির্দেশ।

আরেকদল ক্ষমতাসীন দলের ‘গান্ধা কইরা দেয়া’ ক্রিপি গ্যাং ফেসবুকে মদ খেয়ে মদের বোতলসহ ছবি দিয়ে ও মাতলামো করে স্ল্যাং ব্যবহার করে সমাজের সামনে প্রমাণ করে দিলো, মদ খাওয়া সত্যই হারাম হওয়া উচিত। সত্যিকার অর্থে এরকম পরিমিতিবোধহীন মদ্যপানের কারণে পবিত্র কুরানে ‘মদ জাতীয় নেশাদ্রব্য’ গ্রহণে নিরুতসাহিত করা হয়। নিরুতসাহিত করা মানেই নিষিদ্ধ করা নয়। যার পরিমিতি বোধ আছে; যে নামাজ পড়ার সময় সুরা ভুলে যায় না, যে পেটে দু’বিন্দু খুশিজল পড়লেই ‘নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েনা’; তার জন্য পৃথিবীর কোন কিছুই নিষিদ্ধ নয়। নিজের শরীরের বা সামাজিক পরিবেশের ক্ষতি না করে মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে কী করবে না করবে; তার জন্য সে কেবল খোদার কাছে জবাবদিহি করে। ধর্মের কোন ম্যানেজার বা দেশপ্রেমের কোন ম্যানেজার ধর্ম ও দেশচর্চায় কাংক্ষিত নয়।

একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধুর নাম, পরিমিতি। চাইলে পরিমিতির সঙ্গে বসে খুশিজল পান করা যায়, তার সঙ্গে নাচা যায়; তাকে ভালোবাসা যায়; তার জন্য নিবেদন করা যায় জগতের আনন্দযজ্ঞ।

পরিমিতি কাউকে মাতাল করে না; আর যে খোদার ধ্যানে; সত্য সুন্দর মঙ্গলের আকাংক্ষায় সতত খুশি; তার তো মাতাল হতে খুশিজলও লাগে না। এই যে নিসর্গ; তার মাঝে জীবজগতের অপার সৌন্দর্য্য; আর জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা মায়ার বন্ধন; যেখানে হাত বাড়ালেই বন্ধু; সেখানে এর চেয়ে বড় আর কোন নেশা আছে! আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ যার জীবনে।

একটা বিষয় তো স্বীকার করতেই হবে; গ্রামীণ সংস্কৃতির ‘ঢাক ঢাক গুড় গুড়, পাছে লোকে কিছু বলে; আর চট করে নিজে সাধু সেজে অন্যকে দোররা মারার বা পাথর ছোড়ার যে পঞ্চায়েতি; ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবসা; এসবের পাঁচ পয়সা দাম নাই দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের জগতে।

পাকিস্তানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে একে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে ঘোষণা দেয়া হলেও; পাকিস্তানে পানীয় শিল্পের ঐতিহ্য প্রায় দেড়শো-দুশো বছরের। কাগজে কলমে সংখ্যলঘু ৫ শতাংশ। তারাই লাইসেন্স পান ওয়াইন কারখানা ও দোকান চালানোর। অথচ যে সংখ্যক মানুষ মদ পান করে তা ৭০ শতাংশের কম নয়। খুশিজল পানের হিসেবে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ৩০ শতাংশ মানুষ; যারা খুশিজলকে ‘নিরুতসাহিত করা পানীয় নয়; হারাম পানীয় বলে মনে করেন। ঠিক এ কারণেই আফঘানিস্তান থেকে আগত ‘পপি’ মাদকের ছোবল পাকিস্তানে আঘাত হানতে পারেনি। শহরগুলোতে প্রত্যেক মহল্লাতেই ওয়াইন শপ আছে পাকিস্তানে।

ভারতেও গড় পড়তা ৭০ শতাংশ মানুষই খুশিজল পরিষেবা করে। ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু (অর্থোডক্স বা কড়া হিন্দুত্ববাদী ও ইসলামপন্থী) খুশিজল পান থেকে বিরত থাকে। এরা কাশ্মীর থেকে গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, আসাম হয়ে মনিপুরে সাধারণ মানুষের রক্ত পান করে।

এইসব উগ্রধর্ম ও উগ্র জাতীয়তাবাদের দক্ষিণ এশীয় কসাই; যারা পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশে’ খুন-ধর্ষণ-গুম-ক্রসফায়ারের নেশায় রাক্ষস হয়ে উঠেছে; নিপীড়িত জনমানুষ যেন তাদের উদ্দেশ্যে বলে, কেন রক্তপান করো হে কেল্লার শাসক-শোষক-পরিতোষক-বিদূষক; তার চেয়ে বরং জীবনদায়ী খুশিজল পান করো।

কবি মির্জা গালিবকে খুশিজল পানে কড়া মোল্লারা বাধ সাধলে; তিনি বলেছিলেন, “খুশি জলের মাঝেই যদিই মাদকতা থাকতো তবে সারাক্ষণ বোতলই নাচতো। ”

লালন এসব কড়া অনুশাসনের বজ্র আঁটুনি আর ফস্কা গেরো দেখে এইসব কুচিন্তা আর কুতর্কের দোকানকে ‘কানার হাটবাজার’ বলেছেন। আবার উপহাস করে বলেছেন, জাত গেলো জাত গেলো বলে; একী আজব ‘অনুভূতি’র কারখানা।

অথচ কবি জালালুদ্দিন রুমী যখন বলেন, কষ্টকে ভয় পেয়োনা; কষ্ট পেলে শরীরের মাঝে আলোক প্রবেশ করে। এই দর্শন ভাবনাতে এমন মাদকতা আছে যে, ঘূর্ণায়মান নৃত্যের আবহ তৈরি করে সে ধামাল ছন্দের খুশি-আনন্দ-খোদার নৈকট্য লাভের; পরমাত্মার সঙ্গে আত্মার মিলনের আকুতি।

তাই বুঝি লালন গেয়েছেন, মিলন হবে কত দিনে; আমার মনের মানুষেরই সনে।

মাসকাওয়াথ আহসান, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষক
প্রধান সম্পাদক, ই-সাউথ এশিয়া

The post ‘কেন রক্ত পান করো হে শাসক; খুশিজল পান করো appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
রাজা যায় রাজা আসে; রাজাকার যায় রাজাকার আসে https://sojakotha.com/%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/7769/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be/ Tue, 08 Jun 2021 12:50:07 +0000 https://sojakotha.com/?p=7769 শাহ আব্দুল হান্নান নামের একজন প্রয়াত সরকারি কর্মকর্তার ‘সততা’র সুনাম নিয়ে একটি জাতীয় পত্রিকায় অবিচুয়ারি লেখায় বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উদারনৈতিক হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন সাংবাদিক। এদের কেউ কেউ ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে নিরাপোষ ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে শিরোধার্য জাস্টিফিকেশন-ইজমেরও আপোষী অনুশীলক। মি হান্নানকে নিয়ে সমস্যা […]

The post রাজা যায় রাজা আসে; রাজাকার যায় রাজাকার আসে appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
শাহ আব্দুল হান্নান নামের একজন প্রয়াত সরকারি কর্মকর্তার ‘সততা’র সুনাম নিয়ে একটি জাতীয় পত্রিকায় অবিচুয়ারি লেখায় বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উদারনৈতিক হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন সাংবাদিক। এদের কেউ কেউ ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে নিরাপোষ ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে শিরোধার্য জাস্টিফিকেশন-ইজমেরও আপোষী অনুশীলক।
মি হান্নানকে নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তিনি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। যে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ উগ্রবাদে পরিণত হয়ে একাত্তরে গণহত্যা ঘটিয়েছিলো। সে কারণে তার অবিচুয়ারিতে ‘সততা’র সুনামে প্রতিবাদের সুনামী নিয়ে হাজির শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের নেতাদের কেউ কেউ। তাদের যুক্তি হচ্ছে মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী প্রমাণিত জামায়াতের একজন সমর্থক হান্নান শাহ নিজে মানবতাবিরোধী অপরাধী না হলেও মানবতাবিরোধী সংগঠনের সদস্য হবার কারণে ঢাকার সাংস্কৃতিক জোটের গোত্রচ্যুত হয়েছেন। বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক বলয় নির্ধারণ করে দেয়, মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের নেমেসিস নাসিমের মৃতদেহকে সম্মান জানাতে হবে; আর হান্নান-এর মৃতদেহকে জুতা ছুঁড়তে হবে।
মানবতা বিরোধী অপরাধ কেবল ‘একাত্তর সালে’ ফেভিকল দিয়ে আটকে রাখা প্রপঞ্চ নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াতে বাংলাদেশে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছেন; তারা গত ৫০ বছর ধরে মানবাধিকার হনন করেছেন। হত্যা-ধর্ষণ-উচ্ছেদ-লুন্ঠন; এরকম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত একাত্তরের ‘রাজাকার’দের একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধ আদালতে বিচার করা হয়েছে।
হত্যা-ধর্ষণ-উচ্ছেদ-লুন্ঠন করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, জামায়াত-হেফাজত সদস্যরা; গত ৫০ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিক উদয়াস্ত পরিশ্রম করে দেশের জিডিপি গ্রোথ, মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি, ব্যাংক রিজার্ভ বৃদ্ধি করে চলেছেন ৫০ বছরের প্রতিদিন। আর ৫০ বছর ধরে কোন দলের টিকেট নিয়ে গণতন্ত্রের টেবিল ডান্স বারে ঢুকে; নৈতিকতার স্ট্রিপট্রিজ দেখে; দেশ লুন্ঠন করেছেন; প্রতি পাঁচবছরের ৩০০ জন নাগরিক। তাদের দলীয় পরিচয় যাই হোক; তারা নির্বাচনে জেতার দিন যে পরিমাণ সম্পদের মালিক ছিলেন; ৫ বছর পর সে ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়েছে ১০০ গুণ। যারা আপাত সৎ; তাদেরও আত্মীয় স্বজনেরা সম্পদ একশোগুণ বাড়িয়ে এই মিথকে নির্ভুলভাবে প্রমাণ করেছে; সরকারের অন্য নাম থাগস অফ বেঙ্গল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, চোরের খনি।
এদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে লিপসার্ভিস দেয় যে ইতিহাসবিদ; সেও ব্যাংকের পরিচালক হয়ে; শাকান্ন ফেলে; শাক দিয়ে মাছ ঢাকে। যে সাংবাদিক জাস্টিফিকেশান লিখে দুর্নীতিবাজ সরকার টিকিয়ে রাখে, তাদের বঙ্গবন্ধু, চাটার দল বলে গেছেন। এই চাটার দলও কিন্তু আর্থিকভাবে বেনিফিশিয়ারি হয়। প্লট-পদক-চাকরির নিশ্চয়তা-ক্ষমতার শিহরণ চাটার দলের মূল প্রেরণার জায়গা। নো লিপ সার্ভিস ইজ ফ্রি।
এই যে ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৪ সালের পর যে লিপ সার্ভিস দিয়ে ‘দেশপ্রেম চেতনার স্বয়ম্ভু’ হয়ে টিকে আছে। একে বলা যায় ডাকাতের সহমত ভাইয়ের বড় গলা। ‘প্রাইম মিনিস্টার’স’ মেনদের হাতে পুলিশ, এলিট ফোর্স, প্রশাসন, মিডিয়া নাচে; গণতন্ত্রের বস্ত্র বিসর্জনের নৃত্যের আসরে।
নিহত বিশ্বজিত দাসের শরীরে আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পায়না সরকারি সহমত ডাক্তার; কার্টুনিস্ট কিশোরের শরীরেও নো ওয়ান টাচড; এমনই সব ময়না তদন্তের দেশে; সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক বলয়ের লোক খুব আয়েশ করে, কুঁচ কুঁচ কইরা পুরোহিতের মতো ‘জামায়াতের শাহ’-কে গোত্রচ্যুত কইরা শূদ্র ঘোষণার পূজো-আর্চা শুরু করে। নিও রুলিং এলিট মানেই যেন ব্রাহ্মণ ; বিশুদ্ধতার পরাকাষ্ঠা; দেশপ্রেম টিপেটুপে যে পাপ-পুণ্যের বিচার এই পৃথিবীতেই করবে। আঙ্গুল তুলে দেকিয়ে দেবে; স্বাস্থ্যখাত লুন্ঠন করা কাছিমের লাশ শহীদ মিনারে এলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করতে হবে। আর হান্নানের লাশের দিকের পাথর ছুঁড়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে হবে; বা পাকিস্তানে পাঠাইয়া দিতে হবে।
আবার সমসাময়িক জাস্টিফিকেশান লীগের কন্ঠে মানবতা বিরোধী অপরাধ কেবল একাত্তরে আর বিএনপি-জামাতের আমলে সংঘটিত হয়েছে; আর আওয়ামী লীগ-জাসদ-মহাজোট-হেফাজতের আমলে ‘নো ওয়ান কিল্ড তনু’; নো ওয়ান কিল্ড ত্বকী-সাগর-রুনি। অন্যদেশের কোম্পানি থাকে; আর কোম্পানির একটি দেশ আছে। সুতরাং ‘মুনিয়া হত্যার’ অভিযুক্ত আসামি বসুন্ধরা পুত্রের বিচার চেয়ে মানববন্ধন পণ্ড করে দেয়; হেলমেট ও হাতুড়ির ( বঙ্গবন্ধুর ভাষায় এন এস এফ-এর) পাণ্ডারা। নব্য রুলিং এলিট বামুন পুরোহিতের জ্ঞানের ভারে এক চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খোলা চোখটিতে কেবল হান্নানের পলিটিক্যাল ইনকারেক্ট নেস চোখে পড়ছে। কিন্তু নাসিমের স্বাস্থ্যখাত উজাড় ও ব্যক্তিগত সম্পদ পশ্চিমে সেকেন্ড প্যালেসে জমা হবার পলিটিক্যাল ইনকারেক্টনেস; এ দলান্ধের চোখে পড়বে না।
এদের আবার ধর্মের কার্ড প্লে করা পলিটিক্যাল প্লে বয় এরশাদকে গোত্রচ্যুত করে আবার বিশেষ দূত করে তুলে আনতে হয়েছে; এরশাদের কাঁটা দিয়ে খালেদার কাঁটা তুলতে। হেফাজতের সঙ্গে শোকরানা মেহেফিলে নানালাস্যে হেসেছিলো তারা নিউমদিনার নেশায়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত গোত্রে কাউকে জোর করে ঠেলে দেয়া গেলেই যেন, শূদ্র করে দেয়া গেলো; এরকম প্রশান্তির হাসি সরকারের চাটার দল ব্রাহ্মণ সেজে গালফোলানো পুরোহিতের। শত বছরের শূদ্র জীবন যাপনের পর; এই যে রুলিং এলিট হয়ে ব্রাহ্মণ মর্যাদা লাভের ও স্যার ডাক শোনার যে আকুতি; দার্শনিক ফ্রিডেরিশ নিটশে ঠিক এটাকেই, ফইন্নির ঘরের ফইন্নির জীনগত আশ্লেষ বলে অভিহিত করছেন। নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে; তিন প্রজন্মের শিক্ষা ও নৈতিকতা চর্চা ছাড়া নৈর্বক্তিকতার ক্ষমতা; কোনো জীন অর্জন করতে পারেনা। আর পুষ্টির অভাবে অবিকশিত মস্তিষ্ক টেকাটুকা ও ইমেডিয়েট বেনিফিটের বাইরে টেকসই কোন জীবনপন্থার কথা ভাবতে পারে না।
মানুষ মরছে করোনাভাইরাসের ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ে; আর সরকারি ধামা আপা পদ্মা সেতুর বিজ্ঞাপনের মুখ ঢেকে দিতে দলীয় প্রতীক নৌকায় চড়ে সহমত ভাইয়ের জন্মদিন পালন করছে; পদ্মার ঢেউরে বলে খিল খিল করে হাসছে; নিও এফলুয়েন্সের ও পাওয়ার ইউফোরিয়ার এল এস ডিতে। এই লোডস অফ সুইফ ডেভেলপমেন্ট বা এল এস ডিতে ভাসছে, জাতীয় বাজেট-প্রণোদনা প্যাকেজ-একসেস টু টেকাটুকা প্রজেক্ট-স্বজনপ্রীতির রিরংসা। এরা আবার জনগণকে উদ্দেশ্য করে গান গায়, আমি তো ভালানা ভালা লইয়া থাইকো।
গহীন বালুচর চলচ্চিত্রের সুবর্ণা মুস্তাফা; পান-সুপারী চিবাইতে চিবাইতে খালি কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলে চলেন অনন্তকাল; কত প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিষ তার মনে; তা খোদাও জানতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই হয়তো তাকে নিয়তির হাতে সঁপে দিয়ে ‘হাঁসুনি বাঁকের উপকথা’ ও ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’-র সমসাময়িক সংস্করণ লিখছেন গভীর মনোযোগ দিয়ে। গহীন চরের কথিত অসাম্প্রদায়িক সুবর্ণা-ই একমাত্র নারী; যিনি নির্বাচনী প্রচারণায় হজ্জ্ব করে ফেরা কালো পট্টি মাথায় বেঁধে এই ধর্মীয় চিহ্নটিকে জনপ্রিয় করেছেন আপামর নারী সমাজে। তবু অসাম্প্রদায়িকতার ‘স্বর্ণদণ্ড’ ও ‘অলিভ বৃক্ষে’র ডাল নড়িয়ে তিনি উদারপন্থার রাজশ্রী হয়ে বিরাজ করেন।
করোনাকালে অদৃশ্য দুর্ভিক্ষ মধ্যবিত্তের ঘরে; সড়ক ও জনপথ (সওজ) ভাইয়ার ডিজিটাল বাংলাদেশের ঝলক দেখে ফ্রি লান্সার হওয়া তরুণের আত্মহত্যার খবর ঢেকে যায় টাইমমেশিনে চড়িয়ে অতীত ইতিহাসে ঘুরপাক খাইয়ে। বর্তমানের মৃত্যুকে ঢেকে দিতে অতীতের মৃত্যুর কান্নায় ডুকরে ওঠে ভাড়া করা রুদালিরা।
সবদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চলছে ডিজিটালি; অথচ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শ্লোগানে কানে তালা লাগিয়ে দেয়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, করোনা গেলে খোদার ইচ্ছায় আবার পড়ালেখা হবে। খোদা নড়ে চড়ে বসেন তার লেখার টেবিলে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের আত্মহত্যার খবর হারিয়ে যায়; বিদেশে আম রপ্তানী করে তাক লাগিয়ে দেয়ার ‘বেহুদা ঢোলে’। বঙ্গবন্ধু আইয়ুব খানের বেহুদা উন্নয়ন ঢোলে বিরক্ত হতেন; কারণ বেহুলা বাংলার জলাবদ্ধতার মসজিদে কোমর পানিয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সাধারণ মানুষের কাতারেই তিনি ছিলেন। রুলিং এলিট কনসেপ্টটাকে উনি পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন; সেই সাম্য চিন্তাকে ভয় পেয়েই পশ্চিম পাকিস্তানের নব্য রুলিং এলিটের খুনে এলিট ফোর্স হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো ২৫ মার্চের কালরাতে।
মসজিদের কোমর পানিতে নামাজের ছবি দেখে ক্ষমতাসীনের সরাসরি বেনিফিশিয়ারি ধামাচাপা আপা এগিয়ে এসে বলেন; এরকম ঘটনা বাংলাদেশে নয়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতার খবর রাখেন না; ক্ষমতার প্রাসাদে ক্ষমতার এলএসডিতে মাতাল আপা ও ভাইয়ারা। অবশেষে জলাবদ্ধ এলাকার সাংসদ; পাবলিকের ধাওয়া খেলে; তখন কিল খেয়ে কিল চুরি করা দায়িত্ব জ্ঞানহীন নিও জমিদার সাংসদ বলেন, আমাকে ধাওয়া দেয়নি; পত্রিকায় বানিয়ে ছানিয়ে লিখেছে। জলাবদ্ধতা নয়; নতুন বড়লোক হওয়া লোকেরা ব্যস্ত ইমেজ নিয়ে। যেহেতু দশবছর হলো ইমেজ শব্দটির সঙ্গে পরিচয়। নতুন মানসম্মানের কামড় সবসময়ই বেশি হয়।
জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ হাজারটা ইস্যু ফেলে; হান্নান ও জামাতের চাবানো চুইংগামের আবার চেবানোর যে সংস্কৃতি ও সাংবাদিক বলয়; এরা একাত্তরের নিজামি-কাদের-সাইদি জাতীয় রাজাকারের ২০২১-এর সংস্করণ। রাজা যায় রাজা আসে; রাজাকার যায় রাজাকার আসে; কিন্তু নিষ্ঠুর নিপীড়ক সরকার বনাম চর দখলের লড়াইয়ে আত্মকেন্দ্রিক বিরোধী দলের মাঝে পিষ্ট জনমানুষ আর মানবতা ও বাকস্বাধীনতাহীন ৫৬ হাজার বর্গমাইল পড়ে থাকে অবহেলায়; শোক তাপে, অভিভাবকহীনতার মূঢ় বেদনায়।

মাসকাওয়াথ আহসান, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষক
প্রধান সম্পাদক, ই-সাউথ এশিয়া

 

The post রাজা যায় রাজা আসে; রাজাকার যায় রাজাকার আসে appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
রোজিনাকে ঘিরে এই যে স্প্যানিশ ট্র্যাজেডি https://sojakotha.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/details/7674/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%98%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%af/ Fri, 21 May 2021 14:32:55 +0000 https://sojakotha.com/?p=7674 রোজিনা আমার চোখে বাংলাদেশের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক; ছোট বোনের মতো স্নেহ করি তাকে; শ্রদ্ধা করি তার কাজ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেসা রোজিনা ট্র্যাজেডির নেতৃত্বে ছিলেন; উনি সিভিল সার্ভিসের বড় বোন। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিলেও একটা পারিবারিক বন্ধন তো রয়ে যায়। উনার ব্যাচমেট বন্ধু আমার শ্রদ্ধাভাজন সহকর্মী একসময়ের। বাংলাদেশের মতো ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটা […]

The post রোজিনাকে ঘিরে এই যে স্প্যানিশ ট্র্যাজেডি appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
রোজিনা আমার চোখে বাংলাদেশের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক; ছোট বোনের মতো স্নেহ করি তাকে; শ্রদ্ধা করি তার কাজ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেসা রোজিনা ট্র্যাজেডির নেতৃত্বে ছিলেন; উনি সিভিল সার্ভিসের বড় বোন। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিলেও একটা পারিবারিক বন্ধন তো রয়ে যায়। উনার ব্যাচমেট বন্ধু আমার শ্রদ্ধাভাজন সহকর্মী একসময়ের। বাংলাদেশের মতো ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটা দেশে সবাই সবার চেনা। তবু কেন এদেশে সৌদি এমবিএস-এর রাজতন্ত্রের খাশোগজি হত্যার ক্রোধ চোখে পড়ে তা বুঝতে আমার খুব কষ্ট হয়।

রোজিনার স্বামী মিঠু, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখা একজন অত্যন্ত কার্টিয়াস মানুষ, যে অবসরে সংগীত চর্চা করে। রোজিনার বিপক্ষে তার তথ্য পাবার অধিকারকে তথ্য চুরির তকমা দিয়ে যে মেধাবী আওয়ামী লীগের পলিসিমেকার হ্যাপিইনসাইডারে রোজিনা গ্রেফতারের জাস্টিফিকেশানের কলাম লিখেছে; সে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের প্রতিষ্ঠিত বিতর্ক ক্লাব হাউজ অফ ডিবেটরস-এর প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি; যে আমাদের ক্লাবের জন্য সংবিধান রচনা করেছিলো।

যে সাংবাদিক ছোট ভাইটি আমার সুপারভিশনে একটি অনলাইন মিডিয়ায় কাজ করতো; যার জীবনের প্রথম ইন্টারভিউটি আমার নেয়া; সে গত ৭২ ঘন্টা ধরে ভিক্টিম ব্লেমিং করছে। ভাইটি আমার মেধাবী। কিন্তু ড্রপ আউট হয়ে গিয়েছিলো রবীন্দ্রনাথের মতো। রবীন্দ্রনাথ অনেক পড়ালেখা করে রবির আলো জ্বাললেন। কিন্তু ভাইটি আমার কিছুই না করে অনলাইন সেলিব্রেটি হলেন। আমাদের রাজনীতির প্রবাদ পুরুষদের রেখে যাওয়া অর্ধ শিক্ষিত জমিদার মেজাজের ভাইয়া ও আপাদের চর্বিত চর্বনের মিমি চুইংগাম চিবিয়ে ইতিহাস নির্মাণের আগেই ইতিহাস নির্মাতার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে নিলেন।

ভাইটির একটি মিষ্টি মেয়ে আছে; সে বড় হচ্ছে; নিশ্চয়ই আমার ছোট ভাইটির লেখা ভিক্টিম ব্লেমিং সে পড়ে। রোজিনা একজন নারী সাংবাদিক; যে ১৯২৩-এর দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ; সেই আইনে নারী ও শিশুকে জামিন দিতে হবে এটা স্পষ্ট করে লেখা আছে। কিন্তু অদৃশ্য পুতুল নাচের ইতিকথার এই দেশে বিচারক বাকি মহোদয়; রোজিনার জামিন বাকি রেখেছেন রবিবার পর্যন্ত। অথচ এই টেকাস্তানে সিকদারগ্রুপের এটেম্পট টু মার্ডার কেসের পুত্র ‘রণ’ অপরাধ করে দেশ থেকে এয়ার বাসে করে পালিয়ে; সুযোগ বুঝে আবার ফিরে পাঁচ ঘন্টায় জামিন পেয়েছে।

‘আছেন আমার মুক্তার; আছেন আমার ব্যারিস্টার; শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে তিনি আমায় করবেন পার’-এই গানের উপায়হীন মানুষটি হচ্ছি আমরা। ‘অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে করে’ তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সমদহে’ কবিতার লাইনটি আমাদের কানে বাজতেই থাকে। ঘুমাতে দেয় না। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের রাত জাগা পরাজিত মেঘদল হয়ে আমরা বেঁচে থাকি।

কিছুকাল ক্যাডেট কলেজে পড়ারসূত্রে বন্ধু বৃত্তের একটি বড় অংশ সামরিক বাহিনীতে। এরাও কলেজ জীবনে আমাদের সঙ্গে বসে গিটার বাজিয়ে গাইতো, চলো না ঘুরে আসি অজানাতে; যেখানে নদী এসে মিশে গেছে। সামরিক বাহিনীতে তারাই এখন বস; আর তাদের শিষ্যরা ফেসবুকে আমাকে এসে, অমুক তথ্যের লিংক চায়; তমুক কথা কেন বললাম তার প্রমাণ চায়। জলপাই জিপের সামনে দাঁড়ানো নায়কোচিত প্রোপিকের এক তরুণ সেদিন লাইভ শো’তে আমাকে সরাসরি ভন্ড বললো। বললো, রোজিনার কোন দোষই দেখতে পাচ্ছি না কেন?রোজিনা কেন এতো ‘গোপনীয় রাষ্ট্রীয় তথ্য’ চুরি করে ধরা পড়লো। এতো অনুজপ্রতিমকে কী করে বলি, ভাই স্বাস্থ্য-মন্ত্রণালয়ের মতো ‘চোরের খনি’-র ‘উলঙ্গ মন্ত্রকে’-র কী এমন গোপনীয়তা যা রোজিনা চুরি করতে পারে!

সেনাবাহিনীতে চান্স পাওয়ার পরে মানুষ একবার ম্যাগালোম্যানিয়ায় ভুগে; দ্বিতীয়বার সেনা প্রধান হয়ে সেই একই অহমে ভুগে। সামরিক বাহিনীর ২২ তম লং কোর্সে আমি চান্স পেয়েছিলাম। মনে মনে সেনাপ্রধান হয়ে এরশাদকে ফেলে দেয়ার দিবাস্বপ্ন দেখার সময় আম্মা কান ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিলেন। আর ভয় দেখালেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাড়ির অদূরে পাবনা মানসিক হাসপাতালে রেখে আসবেন।

মা-ই যার এমন ফ্যাসিস্ট; সে আর প্রধানমন্ত্রীকে ফ্যাসিস্ট বলবে কোন মুখে!

পারিবারিক জীবন-সমাজ জীবন-ফেসবুক জীবন-রাষ্ট্রীয় জীবন এমনকী দাম্পত্য জীবনে আমরা ফ্যাসিজমের স্বীকার ও শিকার। ‘এ খাঁচা ভাঙ্গবো আমি কেমন করে’-এই গানটিই জীবনের থিম সং।

জেবুন্নেসা আপা মেধাবী ছাত্রী ছিলেন; পরে এতো প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন; হয়তো বিদেশ সফরে গিয়ে খিঁচুড়ি রান্না শিখে এসেছেন, স্কুলে বাচ্চাদের দুপুরের খাবার পরিবেশন প্রকল্পের প্রশিক্ষণে। তিনি তিন দশকের সুশীল সেবক বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারির জীবনে এটুকু ওজন করতে শেখেননি যে, প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। উনার অধীনের কনস্টেবল মিজান বা পিয়ন পলির সমালোচনা আমি করিনা। কারণ ছোট বেলায় শিশুরা পুষ্টি না পেলে; মস্তিষ্ক বৃদ্ধি পায় না। ফলে ‘হু ইজ হু’, কাকে আঘাত করলে কতটা প্রত্যাঘাত আসবে ঐসব মিজান-পলি বোঝেনা। মাতবর সাহেব কইলে তারা গিয়া সাংবাদিকের গলার টুটি চেপে ধরে দুর্নীতির খবরের সোর্সের নাম জেনে নেবে।

এই যে সোর্স; যার নাম জানার পর থেকে ছোট চুল-সুঠাম দেহীরা নিশ্চয়ই তাকে উন্নয়নের ব্লেন্ডারে ভরে বাতাবি লেবুর জুস বানিয়ে খাওয়ার জন্য ঘুরছে। এইসব ছোট চুল সুঠাম দেহীদের বসেরাও আমাদের ইউনিভার্সিটির আমার চেয়েও বেশি সাম্যভাবনার লোক ছিলেন। যারা এখন ‘খাশোগজি’-র কাগজি লেবুর জুস খেতে চান রাজকেল্লার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ঘূর্ণায়মান চেয়ারে বসে।

মাও সে তুং এর সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিলো মাৎস্যন্যায় ; কার পেশী শক্তি বেশি! কার টিকে থাকার ক্ষমতা বেশি! এসব মাওলানা সাহেব দেখতেন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে মাছ ধরা শেখানোর ভোর থেকে পলিট বুড়োদের মিটিং হয়ে; রাতে তেলাঞ্জলির বিদূষক বৈঠক শেষে ঘুমানো পর্যন্ত।

মাও সে তুং এর একদলীয়-এক চিন্তার যন্ত্র চীনের টেকাটুকা হয়েছে; কিন্তু আমি মরে যেতে রাজি তবু; চীনের মতো বাক-স্বাধীনতাহীন দেশে বাস করবো না।

ওপিয়াম ওয়ারের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারে পাখির মতো মানুষ মেরেছে মাও-য়ের প্রদীপ; তাতেও কিন্তু চীন নেশামুক্ত হয়নি। টাকার নেশায় করোনাভাইরাসের নেশা ছড়িয়ে বেড়ায় চীনারা। বিশ্বের যে কোন জায়গায় গিয়ে পাগলের মতো ছবি তোলে। সিম্পটম সবই মিলে যায় আসল মদিনার খাশোগজিফোবিয়া থেকে ফেইক মদিনা’র রোজিনাফোবিয়ার; আসল চীনের ‘ফাঁপা-জীবন’ ফোবিয়া থেকে ফেইক চীনের ‘ফাঁপা-জীবন’ ফোবিয়ার।

আমাকে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো উগান্ডা; যার লাইলাতুল ইলেকশান, ভোটসমনিয়া, ইদি আমিনকে চেয়ারে তুলে উচ্চে দোলা দেয়া; সহমত ভাইয়ের আকুলি বিকুল লোকজ কাম্পালা; যেখানে আগে বাড়ির সামনে বাঁধা থাকতো বলদ; এখন বাঁধা থাকে উন্নয়নের প্রাডো। উগান্ডার লুন্ঠক সমাজের লোকেরা আমাদেরই পরিচিতজন; আগে পান্তা খাইতো; এখন পাস্তা খায়। আগে সবুজ লুঙ্গি পরতো; এখন থ্রী পিস স্যুট পরে; আগে খালে বিলে ইঁচা মাছ ধরতে ঝাঁপ দিতো; এখন পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিংপুলে মারমেইড ধরে। সুগার এসোসিয়েশান অফ ড্যাড; স্যাড সদস্যরাও আমাদের খুব চেনা। এরা আমাদের ডিবেট ক্লাবে বসিয়ে রেখে লিটনের ফ্ল্যাটে যেতো। ফিরে এসে যুদ্ধে হারার গল্পটাই বানিয়ে ছানিয়ে বলতো।

এসবই স্প্যানিশ ট্র্যাজেডি; আমাদের চেনাজানা বৃত্তের মাৎস্যন্যায়। মুনিয়া হত্যার দুঃখ কিছুটা ভুলে, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মুনিয়ার স্মরণে বৃক্ষ রোপণ করে; ঈদের তিনটা দিন ছুটি পেলাম। সেই ছুটি থেকে মন ভালো করে জীবনে ফিরতেই রোজিনা নিগ্রহের বিষাদ-যমুনা। দক্ষিণ এশিয়ার দোজখে জন্মেছি। শান্তি আমাদের কপালে নাই। মৃত্যু ছাড়া মুক্তি নাই। শুধু বিষ শুধু বিষ দাও; অমৃত চাইনা।

The post রোজিনাকে ঘিরে এই যে স্প্যানিশ ট্র্যাজেডি appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
“আমি কান পেতে রই! “ https://sojakotha.com/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/details/7606/%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc/ Mon, 10 May 2021 07:22:51 +0000 https://sojakotha.com/?p=7606 “সংসার মানে সংসার ভাঙ্গা সংসার মানে তুমি, সংসার মানে সংসার ভাঙ্গা বেদনার জলাভূমি। ” ষোলো বছর সংসার করেছি।কখনো একসাথে বসে চা খাইনি। কখনো অপেক্ষা করিনি,সে এলে চা খাবো।কারণ তার বিকেল কাটতো আমাকে ছাড়াই।দুপুর কিংবা রাতে ভাত খেতাম না, সে খাওয়ার আগে। সেটাও নিতান্তই আমারই তাগিদে। কখনো একসাথে ভাতও খাইনি। সে ছিলো রাজা,আমি আর আমার সন্তান […]

The post “আমি কান পেতে রই! “ appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>
“সংসার মানে সংসার ভাঙ্গা
সংসার মানে তুমি,
সংসার মানে সংসার ভাঙ্গা
বেদনার জলাভূমি। ”

ষোলো বছর সংসার করেছি।কখনো একসাথে বসে চা খাইনি। কখনো অপেক্ষা করিনি,সে এলে চা খাবো।কারণ তার বিকেল কাটতো আমাকে ছাড়াই।দুপুর কিংবা রাতে ভাত খেতাম না, সে খাওয়ার আগে। সেটাও নিতান্তই আমারই তাগিদে। কখনো একসাথে ভাতও খাইনি। সে ছিলো রাজা,আমি আর আমার সন্তান প্রজা।
কতোদিন এমনও হয়েছে যে,ও খেয়ে বাকি খাবারগুলো জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছে, যেন আমরা না খেতে পারি। এই কথাটা যখন কেউ শুনে ওরা বিশ্বাসই করতে চায় না। আমার মেয়ের পনেরোতে আমি ওকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হই। আর কোন মতেই পারছিলাম না। ছেলের বয়স তখন সাত। ছেলে অনেক কিছুই মনে করতে পারে না। মেয়ের তো সবই মনে আছে। মেয়েটা যখন অনার্সে পড়ে সম্ভবত তখন আমার প্রথম বইটা বের হয়। ওখানেই অনেক কথা লেখা ছিল আমার। মেয়ের জন্য একজন পাত্র এক পরিচিত ভাই নিয়ে এসেছে। ওরা ফোনে কথা বলে মাঝেমাঝে। আমি তখন স্কুল শেষ করে একটা, দুইটা কখনো বা তিনটা টিউশনি করে রাত দশটায় বাসায় ফিরি। একদিন ফেরার পর মেয়েটাকে দেখি কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলা অবস্থায় কান্নাকাটি করছিল। পরে জানতে পারি সেই ছেলেটি অর্থাৎ বিয়ের পাত্র আমার মেয়েকে ফোন করে জিজ্ঞেস করছিল, কথাগুলি কি সত্যি যা আমার বইতে লেখা ছিল? মেয়ের কথা শুনে সেই ছেলেটিও নাকি ফোনের ওপাশ থেকে খুব কান্নাকাটি করছিল। যদিও পরে ভিন্ন এক কারণে সেই ছেলেটির সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হয়নি। সেটা অন্য গল্প। এই গল্পের সাথে সেটার কোনো সম্পর্ক নেই। এমনও হয়েছে একদিনের কথা একদিনের ছবি আমার চোখে কে বা কারা যেন লাগিয়ে দিয়েছে আঠা দিয়ে। কিছুতেই যা সরাতে পারি না স্মৃতির চোখ থেকে। দুপুরে খাবার পর আরও চার টুকরো ইলিশ মাছ ভাজা ছিল রাতে খাবার জন্য। আমার সেই সোয়ামী প্রভুটি খাওয়ার পরে আমি আমার মেয়ে যখন রান্না ঘরে ঢুকলাম খাওয়ার জন্য , দেখি ভাত মাছ কিছুই পাতিলে নেই। তবে চার টুকরা মাছের কাঁটা কড়াইতে রাখা আছে।আমার বোনরা,কলিগরা বলতো তোরা আগে খেয়ে নিস,কিন্তু কখনোই সেটা করতাম
না। না,ভালোবেসে নয়,ঘৃণায় উপোস দিতাম তবু আগে খেতাম না।
ও কে?
ও ছিলো আমার স্বামী, সমাজ যাকে বৈধ বলে।
আজকাল বিকেল গুলি বড়ো বেশীই একা লাগে,ফাঁকা লাগে।বুকের ভেতর ফাঁকা লাগে। এই লাগাটা আগেও ছিলো,তখন সন্তান নিয়ে ব্যস্ততাও ছিলো।তাই খারাপ লাগাটাও কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।ছুটতে পেরেছি।এখন আর পারি না।এখন ছুটতে পারি না আর ! বিকেল বেলা, সন্ধ্যা আর রাত্রিবেলা এমনকি সকাল এবং দুপুরবেলা,সত্যি বলতে কী সারাটাবেলাই তোমায় ঘেঁষে থাকতে ইচ্ছে কর খুব। একসাথে বসে চা খাওয়া,সকাল দুপুর খাবার খাওয়া… ইচ্ছে করে খুব!

ছেলেটাকে সেদিন বলছিলাম, ভালো লাগে না কিছুই। বললো, মামাকে এনে দিলেই বুঝি ভালো লাগবে?
ছেলে দুষ্টামি করছিলো।
আমি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের লাইনটা কেটে…।

তুমি কে?
তুমি এখন অন্য কারো বর। সমাজ যাকে আমার জন্য অবৈধ বলে। অথচ সমাজ বৈধ বলে সে ছিল আমার বর। যাকে নিয়ে আমার একটু সুখের স্মৃতিও নেই।
একটা সময় দাসপ্রথা সতীদাহ প্রথা বৈধ ছিল সামাজিকভাবে। সময়ের প্রয়োজনে, যুগের দাবিতে বৈধ-অবৈধ সংজ্ঞাটাও একদিন পাল্টে যাবে। পাল্টে যাবে আত্মীয় আর অনাত্মীয়ের সংজ্ঞাটাও। আমি সেই সময়ের জন্য বুক পেতে থাকি। মন পেতে থাকি, কান পেতে থাকি।

একদিন এই বৈধ অবৈধের সংজ্ঞাটা পাল্টে যাবে জানি। সেদিন কিন্তু আমি থাকবো না।

– শামা আরজু, লেখক

The post “আমি কান পেতে রই! “ appeared first on সোজা কথা ডটকম.

]]>