অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রভাবে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের বাজারেও।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার ইঙ্গিত দিতে পারে। উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের বিনিয়োগ আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ বিক্রি করে অন্য সম্পদে ঝুঁকছেন, যা স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করছে।
সাম্প্রতিক লেনদেনে স্পট গোল্ডের দাম সামান্য কমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাই বর্তমানে স্বর্ণের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, যখন সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় তখন স্বর্ণের চাহিদা স্বল্পমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন সুদ প্রদানকারী আর্থিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের এ পরিবর্তনের প্রভাব বিভিন্ন দেশের স্থানীয় স্বর্ণবাজারেও ধীরে ধীরে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক দর ছাড়াও মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, কর এবং স্থানীয় চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বর্তমান অস্থির বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত নীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা উচিত।
বুধবার (২২ জুলাই) দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর আজ বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স ৪,১০৩.৩৯ ডলারে নেমে আসে। আগের দিন এটি ৪,১৬৫.৮৭ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ ছিল। একই সঙ্গে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১.১ শতাংশ কমে ৪,১০৬.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।=
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন হামলা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় তেলের দাম ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা জোরালো হয়েছে।
ইন্ডাসইন্ড সিকিউরিটিজের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট জিগার ত্রিবেদী বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে এবং ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আগামী সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে বাজারে ধারণা থাকলেও, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৭৭ শতাংশ।
স্বর্ণের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.৩ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.২ শতাংশ কমেছে।


